ফাইল ছবি
ঢাকা, ৩০ মার্চ (সোমবার): দেশের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (Asian Development Bank)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং এর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে দেশের সড়ক, সেতু, রেল ও নৌখাতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করা, নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর আধুনিকায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, নিরাপদ এবং সময়োপযোগী করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক ও সেতু খাতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একইসঙ্গে রেলপথের সম্প্রসারণ এবং নৌপথের আধুনিকায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থা একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে রূপ নেয়।
এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সংস্থাটির চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এডিবি বিভিন্ন খাতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগ ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শহর ও গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নয়ন এবং লজিস্টিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
উভয় পক্ষই মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে দেশের অবকাঠামো খাত আরও গতিশীল হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের বৈঠক দেশের উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করে এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়ায়। বিশেষ করে যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে, আজকের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন যাত্রায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সূত্র: অফিসিয়াল পেজ